সমগ্র ভারতব্যাপী এখনো পর্যন্ত প্রচুর সংখ্যক মানুষ দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস করেন এবং এই সমস্ত মানুষের অন্ন, বস্ত্রের মতো প্রাথমিক চাহিদাগুলি পূরণ করা গেলেও নিজস্ব বাসস্থানের চাহিদা এখনো পর্যন্ত পূরণ করা সম্ভব হয়নি। যার জেরে সাধারণ নাগরিকদের নিজস্ব পাকাবাড়ির চাহিদা পূরণ করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা কার্যকর করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকাশিত রিপোর্ট অনুসারে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত এই যোজনার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। সুতরাং, আপনিও যদি সুরক্ষিত বাসস্থানের চাহিদা পূরণের জন্য প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় নিজের নাম নথিভুক্ত করতে চান তবে আজকের এই প্রতিবেদন আপনার জন্য।
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার সুবিধা – মূলত দেশব্যাপী যেসমস্ত নাগরিকদের পাকা বাড়ি বা সুরক্ষিত বাসস্থান নেই তাদের পাকা বাড়ি প্রদানের জন্যই কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এই বিশেষ যোজনাটি কার্যকর করা হয়েছিল। এই যোজনার আওতায় আবেদনকারীকে পাকা বাড়ি নির্মাণের জন্য ১,২০,০০০ টাকার অনুদান প্রদান করা হয়ে থাকে।

কারা প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার সুবিধা পাবেন – কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে প্রকাশিত নির্দেশিকা অনুসারে যেসমস্ত নাগরিকদের নিজস্ব পাকা বাড়ি নেই তারাই কেবলমাত্র এই যোজনার আওতায় নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন। এছাড়াও যেসমস্ত পরিবারে ১৬ থেকে ৫৯ বছর বয়সী কোনো পুরুষ সদস্য কিংবা কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য নেই তারাও এই যোজনার আওতায় নিজের নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন। অন্যদিকে, যেসমস্ত পরিবারে প্রতিবন্ধী সদস্য রয়েছে তারাও এই যোজনার আওতায় নিজের নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন।
এর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে প্রকাশিত নির্দেশিকা অনুসারে জানা গিয়েছে, যেসমস্ত পরিবারে ২৫ বছরের বা তার বেশি বয়সী কোনো শিক্ষিত সদস্য নেই সেই পরিবারগুলি এই যোজনার আওতায় নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন। ইচ্ছুক নাগরিকদের সুবিধার্থে আরও জানিয়ে রাখি, যেসমস্ত পরিবারের সদস্যদের বাইক কিংবা অন্য কোনো গাড়ি রয়েছে অথবা ৫০ হাজার টাকার আমানত রয়েছে তারা কোনোভাবেই এই যোজনার আওতায় আবেদন জানাতে পারবেন না। এছাড়াও যেসমস্ত নাগরিকদের কাছে কিষাণ ক্রেডিট কার্ড রয়েছে তারাও প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার অধীনে পাকাবাড়ি তৈরির অনুদান পাবেন না।
আরও পড়ুন – উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার রেজাল্ট মোবাইল দিয়ে চেক করবেন কিভাবে? জেনে নিন সহজ পদ্ধতি।
আবেদনের প্রক্রিয়া – প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা আওতায় আবেদনের প্রক্রিয়া এবং অনুদান বিতরণের প্রক্রিয়াটিকে সহজ করে তোলার জন্য এই যোজনাটিকে মূলত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে – প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা গ্রামীণ এবং প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা শহর। গ্রাম এবং শহর উভয়ক্ষেত্রে বসবাসকারী নাগরিকরা প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় আবেদন জানানোর ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে কার্যকরী দুটি বিশেষ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন জানানোর সুবিধা পেয়ে থাকেন।
আপনিও যদি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় আবেদন জানাতে চান তবে আপনি গ্রামে অথবা শহরে কোন ক্ষেত্রে বসবাস করছেন তা অনুসারে নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন জানানোর প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করুন।
আবেদনের ক্ষেত্রে আবশ্যক নথি –
(ক) প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা গ্রামীণ -এর অধীনে আবেদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথি,
১. আধার কার্ড
২. বার্ষিক আয়ের সার্টিফিকেট।
৩. স্থায়ী নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র।
৪. মাইনরিটি সার্টিফিকেট।
৫. EWS সার্টিফিকেট/ LIG সার্টিফিকেট/ MIG সার্টিফিকেট
৬. ব্যাংক ডিটেইলস।
৭. বাড়ি না থাকার প্রমাণপত্র।
(খ) প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা শহর -এর অধীনে আবেদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথি,
১. আধার কার্ড
২. জব কার্ড
৩. ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ডিটেইলস
৪. পাকা বাড়ি না থাকার প্রমাণ
৫. স্বচ্ছ ভারত নম্বর