দিদি Number 1: এটি একটি reality ভিত্তিক গেম শো তবে এটা পুরোপুরি আনসক্রিপটেড নয়, পশ্চিমবঙ্গে নামিদামি ও ভিআইপি সেলিব্রেটিরা তাদের জীবনের বিশেষ সফলতার দিকগুলি তুলে ধরে এই রেলটি সোয়েট মাধ্যমে এবং এখানে বেশ কিছু প্রতিযোগিতা মূলক খেলা আয়োজিত করেন এই শোটি প্রথম চালু হয়েছিল ২০১০ সালে।
প্রথম সিজনের সঞ্চালিকা ছিলেন পুষ্পিতা মুখার্জী। পরে বিভিন্ন সময়ে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, জুন মালিয়া এবং দেবশ্রী রায়-ও অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেছেন। বর্তমানে (২০২৬ সালের নতুন সিজনে) সঞ্চালিকার দায়িত্ব নিয়েছেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়।
তবে এই রিয়ালিটি শো-এর সব থেকে বেশি দিন সঞ্চালিকার ভূমিকা পালন করেছেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় তিনি এখানে ২০১১ কাল থেকে বর্তমান ২০২৬ সাল পর্যন্ত কাজ করে গিয়েছেন এই টেলিভিশন শোতে। Zee Bangla টিভি চ্যানেলে আয়োজিত এই শোতে প্রতি সিজনে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তার পারিশ্রমিক দেওয়া হতো ১ কটি টাকা। ধীরে ধীরে দিদি নাম্বার ওয়ান রিয়ালিটি শোতে জনগণ বেশ পছন্দ করে নিয়েছিলেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
যেহেতু রিয়েলিটি শো এর মাধ্যমে সকলের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় আর এই সময় রচনা ব্যানার্জির বাড়তি জনপ্রিয়তার লক্ষ্য করে পশ্চিমবঙ্গের পলিটিক্যাল পার্টি তৃণমূল কংগ্রেস থেকে তাকে পলিটিক্যাল পার্টির প্রার্থী হিসেবে যোগদান করার সুযোগ করে দেয় তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিম ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
পরবর্তী সময়ে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে All India Trinamool Congress-এ ২০২৪ সালের মার্চ মাসে যোগ দেন। একই সময়ে তাঁকে হুগলি লোকসভা কেন্দ্র থেকে দলের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়।
এরপর অনুষ্ঠিত 2024 Indian general election-এ তিনি নির্বাচিত হন এবং ৪ জুন ২০২৪ নির্বাচনের ফল ঘোষণার মাধ্যমে জয়ী হন। পরে ৯ জুন ২০২৪ তিনি লোকসভার সদস্য (MP) হিসেবে শপথ নেন এবং দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তবে তৃণমূল পার্টির পতনের পর অর্থাৎ 2026 এ তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর ক্ষুদ্র হয়ে পশ্চিমবঙ্গের জনগণ। ভারতীয় জনতা পার্টি অর্থাৎ বিজেপি পার্টিকে সমর্থন করে নতুন সরকার গঠন করেন। এর ফলস্বরূপ তৃণমূলের বেশ কিছু দুর্নীতি তোলাবাজ চাকরি চুরি জালিয়াতি ইত্যাদির ওপর পশ্চিমবঙ্গের জনতার বিশাল প্রভাব পড়লে পলিটিকাল পার্টির সাথে যুক্ত রচনা ব্যানার্জিকে Zee Banglar মেন চিফ অফ ডাইরেক্টর । দিদি নাম্বার ওয়ান এর সঞ্চালিকা ভূমিকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং তার পরিবর্তে এক অরাজনৈতিক ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী কে সেই জায়গা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় আর তখনই নাম আসে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের।
স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় বাংলা চলচ্চিত্রের এক অতি জনপ্রিয় এবং শিক্ষিত এবং নন পলিটিকাল ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে উঠে এসেছে । টলিউড সিনেমাতে বেশ নামিদামি অভিনেতা অভিনেত্রী সঙ্গে তার সিনেমা সকলেই দেখেছে। ছোট থেকে বড় সকলেই তার সিনেমা পছন্দ করে। এছাড়াও তার আরও একটি পরিচয় রয়েছে তিনি ৭০ থেকে ৮০ দশকের বিখ্যাত অভিনেতা সন্তু মুখোপাধ্যায়ের কন্যা। এই সমস্ত কিছু বিবেচনা করে রচনা ব্যানার্জীর পরিবর্তে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় কে নতুন সঞ্চালিকার দায়িত্ব দিয়েছেন জি কর্তৃপক্ষ। আশা করি জনগণ তার এই সিদ্ধান্তকে স্বীকার করবে।
