রানাঘাট: রানাঘাট পৌরসভার ভাইস প্রেসিডেন্ট আনন্দ দে রানাঘাট বাসি এক মহিলার অভিযোগ দায়ের করেছে রানাঘাট থানায় ২০১৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকা কালীন জোরপূর্বক তার বাড়িতে দলবল নিয়ে জোর করে তুই কাটা জমিন লিখে নেওয়া ও মারধর করার অভিযোগ দায়ের করল পুলিশ সুপারের কাছে।
এই মহিলার দাবি যে জোরপূর্বক তার দুই কাঠা জমি দখল করে নিয়েছে আনন্দ দে ও তার দলবলরা এবং সেই জমিতে বেআইনি নির্মাণের কাজ চালাচ্ছে। সেই সময় পুলিশের কাছে এই মাফিয়া গুন্ডাদের ভয়ে অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি তবে তিনি হার মানিয়ে নিন তৃণমূলের জাতীয় স্তর অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে যোগাযোগ রেখেও মেলেনি কোন সাহায্য। তবে সরকার পতনের পর সেই মহিলা রানাঘাট থানা পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন জারি করেন তার জমি ফিরিয়ে দিতে ও মাফিয়া রাজদের গ্রেফতার করতে।
কে এই আনন্দ দে ?
বর্তমান সময়ে অর্থাৎ ২০২৬ এ এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে বলা যেতে পারে তিনি রানাঘাটের দুর্নীতিগ্রস্ত ও মাফিয়া রাজ প্রতিস্থাপনে এক মুখ। বামফন্ট আমলে এরা কংগ্রেস পার্টি সমর্থন করতেন। রানাঘাট ছিল একসময় গুন্ডাদের আদর ঘর, সেই সময় শংকর শিং নামক এক মাফিয়া লিডার রানাঘাটে ডাকাতি চুরি ও অন্যান্য সমাজবিরোধী মূলক কাজগুলি করতেন। সেই সময় তার যোগাযোগ ছিল রানাঘাটে এই আনন্দদের বাবা অমলদের সাথে।
রানাঘাটে কুপার্স ক্যাম্প সংলগ্ন রেলের কার্পেট আছে যেখানে রেল মেরামত করা হয়। সেই জায়গাতে বিভিন্ন রেলের ইঞ্জিন চুরি পার্টসপত্র চুরি করা থেকেই শুরু তাদের এই বেআইনি কার্যকলাপ। যদিও এক সময় আসে রানাঘাট পুলিশ প্রশাসন বেশ কঠোর পরিস্থিতি তৈরি করে এই সমস্ত মাফিয়া লিডারদের ওপর। রানাঘাট বাসীদের মতে রানাঘাটে এক পুলিশ অফিসার এসে রানাঘাটে দুর্নীতি দমন করতে সক্ষম হয়েছিল আর সেই দুর্নীতির দমনের প্রথম শিকার হয় এই অমল দে অর্থাৎ বর্তমান রানাঘাটের তৃণমূলের পৌরসভার ভাইস প্রেসিডেন্ট এর পিতা।
পিতা হারাবার পর শংকর সিংয়ের অনুপ্রেরণায় ২০১৬ সালে তারা তৃণমূল পার্টি জয়েন করেন এবং তার স্ত্রী বর্ণালী দে কে রানাঘাট দক্ষিণের তৃণমূল পার্টির পঞ্চায়েত নির্বাচনে জেলা সভাপতি জন্য দাঁড় করিয়ে জোর করে ভোট লুট করে পঞ্চায়েতের সদস্যবৃন্দ তৈরি করেন। যদিও জনগণ তাদের সেই পরিমাণে ভালো চোখে দেখেনা তবে ২০১৬ সালের বিধানসভায় টিকিট পেয়ে রানাঘাট দক্ষিণ থেকে ভোটে দাঁড়ালে পরবর্তী সময়ে তিনি ৫০ হাজার ভোটে হেরে যান। তবুও রাজনীতির ক্ষমতা নিজের হাতে রাখার জন্য আরও একবার প্রচেষ্টা চালিয়ে যান রানাঘাট দক্ষিণ থেকে তবে ২০২২ সালে আরো একবার তাকে পরাস্ত করে নানাঘাট দক্ষিণের জনগণ বিপুল ফোটে পরাজিত করেন এবং সেই সময় বিজেপি প্রার্থী হয়ে দাঁড়ান ডক্টর মুকুট মনি অধিকারী জনগণ ভালোবেসে তাকে ভোট দিলে তিনি বিজেপির বিধায়ক হয়ে যান।
এরপর ২০২৬ এলো বিধানসভার পালা। এ বছরও হার মানে নি এই আনন্দ দেবো তার স্ত্রী বর্ণালী দেয় রানাঘাট দক্ষিণ ছেড়ে এবার উত্তর-পশ্চিমে বিধানসভার টিকিট পান তিনি। সেখানে গিয়ে জনগণকে বেশ বুঝিয়ে প্রতিদিন সোশ্যাল মিডিয়াতে বসে গাইতে থাকতেন ৪ই এপ্রিল আমরাই জিতব আমরাই আছি। এবং তার বেশ সঙ্গো বাংলা সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করতেন চার তারিখের পর বিজেপি কর্মীদের মুন্ডু নিয়ে ফুটবল খেলব। তবে জনগণ এবং বেশ কিছু সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার সেইসঙ্গে ফেসবুকে তৃণমূল বিরোধী গ্রুপগুলো পেজগুলি। যারা সমাজকে আগে থেকেই সচেতন করে দিয়েছিলেন ভবিষ্যতে এরা কি পরিমান গুন্ডা ও মাফিয়া চালাতে পারে এই অঞ্চলে। তবে বর্ণালীদের বিরুদ্ধে বিজেপি পার্টির হয়ে ভোটে দাঁড়িয়ে ছিলে ,বিধায়ক অসীম বিশ্বাস মহাশয় তিনি আগে থেকেই ঘোষণা করে দিয়েছিলেন যে আমি পঞ্চাশ হাজার ভোটে হারিয়ে এই মহিলার রাজনীতি ক্যারিয়ার বাজেয়াপ্ত করব। এতো ভুমিপুত্র তিনি তাই রানাঘাট উত্তর পূর্বে মানুষ মন খুলে ভোট দিয়েছেন এবং তাকে জয়যুক্ত করেছেন।
এরপর এলো ৪ঠা মে পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের দিন দুপুর একটার মধ্যে রানাঘাট দক্ষিণের রেজাল্ট চলে এলে নিজের হার স্বীকার করলে সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং সেদিন থেকেই উল্টো দিন হলো শুরু ভারতীয় জনতা পার্টি বলেছিলেন মাফিয়া ও গুন্ডারাজ দমন করব। তাই পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত শহরে সমস্ত গ্রামগুলিতে চলছে ডিম থেরাপি। আর এই ডিম থেরাপি ও গুন্ডারা দমনে জনগণ ও ভারতীয় জনতা পার্টির বেশ কিছু কর্মীরা এগিয়ে এসে সেই সমস্ত তৃণমূলের স্বৈরাচারী নেতা নেতৃত্ব বর্গের সমস্ত কার্যকর্তাদের ডিম থেরাপি করছে আর এর ভয়ে বর্তমানে ভাইস প্রেসিডেন্ট ১১ জন কাউন্সিলরসহ পদত্যাগ করলেন রানাঘাট পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকে।
দিন বদলের পালা হলো শুরু রানাঘাটে এক প্রতিবাদী মুখ প্রিয়া বিশ্বাস দিদি সারা রানাঘাটে এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল গুলিতে এই স্বৈরাচারী দল ও মাফিয়া লিডারের কাছ থেকে যারা মারধোর খাওয়া ও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে একের পর এক তাদের পাশে থেকে আশ্বাস দিয়ে জনগনের সামনে তাদের আসল মুখোশ খুলে দিয়েছে আর এই সময় আরো এক দুর্নীতি শিকার হওয়া মহিলা যার বাড়ি জোর করে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এবং তাকে মারধর করা হয়েছিল তিনি রানাঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন তার ওপর ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক পরিস্থিতি কিভাবে তাকে মারধর করা হয়েছিল ও তার দুই কাঠা জমি কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
